প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:১৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
শখের বসে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে ১০টি রঙিন মাছ কিনে শুরু করেছিলেন চাষ। সেই শখ চার বছরে পরিণত হয়েছে সফল উদ্যোগে। এখন বাড়ির উঠানে তৈরি ৩৬টি পাকা চৌবাচ্চায় ৩০ প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ করছেন নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার উদ্যোক্তা আবু রায়হান। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ। সেখান থেকে তিনি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন।
২০২০ সালের শুরুতে নীলফামারী শহরের একটি অ্যাকোয়ারিয়াম ফিশের দোকান থেকে শখের বসে ৫০০ টাকা দিয়ে ১০টি রঙিন মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন রায়হান। তখন মাছগুলোর নামও জানতেন না তিনি। পরে জানতে পারেন, সেগুলো মিক্সগাপ্পি প্রজাতির মাছ। প্রথমে বাড়ির বালতিতে মাছগুলো চাষ করেন। প্রায় ১৫ দিন পর পানি পরিবর্তনের সময় কয়েকটি মাছের পেটে ডিম দেখতে পান। পরে সেখান থেকে পোনা উৎপাদন শুরু হলে রায়হানের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে বাড়ির উঠানে চৌবাচ্চা তৈরি করে মাছের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন তিনি। এক সময়ের শখের সেই ছোট উদ্যোগই এখন রূপ নিয়েছে রঙিন মাছের খামারে। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে মিক্সগাপ্পি, শর্টটেইল, রেডটেইল, প্লাটিনাম ডাম্বু, ইয়ার অ্যালবাইনো কই, কই টক্সিডো, ব্লু হেড সামুরাই, রেড মস্কো, স্নেক স্কিন গাপ্পি, কোবরা, ব্ল্যাক বেলুন মলি, হোয়াইট বেলুন মলি, জেবরা, গ্লো টেট্রা, মুনটেইল মলি, কই কার্প, কমেট কই ও মিকি মাউস প্লাটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছ। রঙিন মাছ বিক্রির জন্য তার নিজের একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। তার নাম রঙিন মাছের খামার নীলফামারী। ওই পেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা যোগাযোগ করেন। জেলার সৈয়দপুরের পাইকাররা তার কাছ থেকে পাইকারি দামে মাছ কিনে নিয়ে যান। প্রজাতি ও আকারভেদে প্রতিটি মাছ ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অক্সিজেনযুক্ত ব্যাগে এসব মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন তিনি।
রায়হান ইসলাম বলেন, শুরুর সময়ে মাছগুলো নিয়মিত বাচ্চা দিতে শুরু করলে আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে মাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন রঙিন মাছের একটি খামার করার স্বপ্ন দেখি। বলতে গেলে রঙিন মাছ পালনের নেশায় পড়ে যাই। এখন আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। এগুলো আমাকে যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমার এমন কিছু করার ইচ্ছা ছিল, যেখানে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। রঙিন মাছ চাষে আমি দুটোই পাচ্ছি। ব্যাবসার পাশাপাশি এটি করতে তেমন কষ্টও হয় না। বৃহৎ পরিসরে শুরু করার ক্ষেত্রে পরিবারের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছে। অনেকটা শখ ও আনন্দের মধ্য দিয়েই খামারটি পরিচালনা করছি।
এবিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এই খাতে রায়হানের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছেন। বিদেশেও রঙিন মাছের চাহিদা রয়েছে। মাছ চাষে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন