প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠগুলোর মধ্যে একটি ভোলা সরকারি কলেজ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছরেও কলেজটিতে গড়ে ওঠেনি কোনো অডিটোরিয়াম। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা কলেজের মাঠে অস্থায়ী প্যান্ডেল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে যেমন ব্যয় হচ্ছে অর্থ, অন্যদিকে বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা তীব্র রোদের মধ্যেও সম্পন্ন করতে হয় বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও কলেজের গুরুত্বপূর্ণ সব অনুষ্ঠান, এতে ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে কলেজ কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৬২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভোলা পৌরসভার যুগীরঘোল-সংলগ্ন ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে স্থাপিত হয় কলেজটি। এরপর ১৯৭৯ সালের ৭ মে জাতীয়করণ হয়।
এরপর থেকে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ রয়েছে এবং ১৬টি বিষয়ে অনার্স এবং ১৪টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমানে কলেজে ৯ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছেন, এরমধ্যে ৫ হাজার ৫৪৭ জন ছাত্র ও ৩ হাজার ৬৯৫ জন ছাত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া ৫২ জন শিক্ষক ও ৪৩ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন কলেজটিতে।
তারা আরও জানান, বরিশাল বিভাগীয় পর্যালোচনায় প্রশংসনীয় ফলাফল করে আসছেন এবং বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ভৌত অবকাঠামোর অভাব এখন কলেজটিতে তীব্র। কলেজে একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক অডিটোরিয়াম না থাকায় জাতীয় দিবস, নবীন বরণ, বিদায় সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা কিংবা অ্যাকাডেমিক সেমিনার আয়োজনে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে। বিগত দিনে বিভিন্ন সরকারের শাসনামলে তাদের মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরা কলেজে এসে বার বার আশ্বাস দিয়ে গেলেও বাস্তবে সে আশ্বাস আর আলোর মুখ দেখেনি।
ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মেসকাত আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল তুহিন, হাসনাইন ইসলাম ও তুষি বলেন, অডিটোরিয়াম না থাকায় কলেজ প্রশাসনের আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সেমিনারগুলো খোলা মাঠে আয়োজন করতে হয়। ফলে বৃষ্টি, অতিরিক্ত গরমের কারণে পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান প্রায়ই পণ্ড হয়ে যায়। এ ছাড়া কলেজের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে কোনো বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ বা বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তৃতার আয়োজন করা সম্ভব হয় না। খোলা স্থানে বড় কোনো আয়োজন করলে পর্যাপ্ত সাউন্ড সিস্টেম, প্রজেক্টর এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পেছনের সারির শিক্ষার্থীরা কথা শুনতে বা উপস্থাপনা দেখতে পান না। এসব সমস্যা লাঘবে সরকারের কাছে অতিদ্রুত আমাদের কলেজে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের জোর দাবি জানাই।
কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক মো. এমরান হোসেন বলেন, ভোলা সরকারি কলেজে একটি আধুনিক ও পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতাসম্পন্ন অডিটোরিয়ামের অভাব অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক, সহশিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক বিকাশে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর অসংখ্য অত্যাবশকীয় অনুষ্ঠান, যেমন- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, বিজ্ঞান মেলা, সিম্পোজিয়াম, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশ, মতবিনিময় সভা, নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন, বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা কঠিন হয় এবং কলেজ প্রশাসনের বেগ পেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, অডিটোরিয়াম না থাকায় জরুরি সভা ও সমাবেশের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্দিষ্ট করা কঠিন হয়ে যায় সেহেতু সব রুমই শুধু ক্লাস পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা। বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অস্থায়ী প্যান্ডেল ব্যবহার করতে হয় ফলে অতিরিক্ত অর্থ, সময় ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। আবার এসব অস্থায়ী প্যান্ডেলে অনুষ্ঠান আয়োজন করলে বৃষ্টি, ঝড়, অতিরিক্ত গরম বা অন্যান্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান ব্যাহত হয় প্রতিবছরই। অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ওপর পুরোই নির্ভরশীল থাকি। এমনকি কিছু অনুষ্ঠান এই নির্ভরশীলতার জন্য আমরা আয়োজন করতে পারি না। এ ছাড়া অডিটোরিয়াম থাকলে বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাসহ অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা সহজ ও কার্যকরী হতো।
এ বিষয়ে ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো.ইসরাফীল বলেন, আমরা একটি আধুনিক অডিটোরিয়ামের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিস্তারিত উল্লেখ করে একাধিকবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাবনা ও আবেদন পাঠিয়েছি। ফাইলটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে ভোলা সরকারি কলেজে দ্রুত একটি সর্বাধুনিক অডিটোরিয়াম প্রয়োজন। এটি আসলে দীর্ঘদিনের দাবি।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন