প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ১২:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত নিম্নবর্ণিত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শককে প্রশাসনিক কারণে ২৬ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ণে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তর, ডিএমপি, ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হলো।
আদেশে শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমকে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তার নতুন কর্মস্থল হিসেবে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক জানান, ঘটনাটি ভিন্নভাবে সামনে এসেছে। তার ভাষ্য, ওই এলাকায় একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। এক পক্ষ তাদের জমিতে যেতে পারছিল না। ওই পক্ষ লোকজন নিয়ে আসার পর দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পড়ে যায়।
নাজমুল হক বলেন, ঘটনা ভিন্নভাবে আসতেছে। অন্যরকম মানে ঘটনাটা হয়েছে। ওইখানে নিউ প্রপার্টি আছে, প্রপার্টি ওইখানে দুইটা পক্ষ আছে। ওইখানে আরেকজনের একটা জমি আছে। এক পক্ষ যেতে পারতেছে না। যে পক্ষ তার জমিতে যেতে পারছে না, তারা লোকজন নিয়ে আসছে যে গেট থেকে উনি ওনার জায়গায় যাবে। আর এই দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদিরের এই স্টুডিও। উনারাও জানে না, হ্যাঁ ওনাদের স্টুডিও এইটা। উনারা ওই লোকজন নিয়ে আসছে এসে আর কি, একটু যাই হোক ওইটা একটু ভাঙচুর করছে, ওইটা ভাঙচুর করসে।
তিনি বলেন, তো এইটা অন্যভাবে চলে আসছে আর কি মিডিয়াতে। ঘটনাটা হচ্ছে এইটা, যেটা হচ্ছে এইটা অনাকাঙ্ক্ষিত। ওইটা নিয়ে আমরা কাজ করতেছি।হামলার ঘটনায় তিনজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে বিমানে ঢাকা আসেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি দেখেন এবং ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, “আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।”
হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।”
হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন