প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০২:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কে রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। এতে বাসটির অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নগরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজীব পরিবহনের বাসটি ঢাকা থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকার দিকে যাচ্ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পথে বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে অটোরিকশায় থাকা সাতজন ঘটনাস্থলে মারা যান।
নিহত সবাই জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)।
এ ছাড়া নিহত অন্য তিনজন হলেন- বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন সরকার জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাতজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহগুলো নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। শনিবার সকালে পৃথক জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
দুর্ঘটনায় মা, ভাই, ভাতিজি ও নাতিকে হারানোর ঘটনায় জামালপুরের দড়িহামিদপুর গ্রামের মোবারক আলী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় অভিযোগ করেন। পরে রাত ১২টার পর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় রাজীব পরিবহনের বাসটির অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজীব পরিবহন ঢাকা ও জামালপুর রুটে চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে এ পরিবহনের বাস প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় জড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুরের সাত বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরের ফৌজধারী এলাকায় গায়েবানা জানাজা ও প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা বিচার দাবি করেন।
এর আগে সড়কে ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর বাসটির চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে যান। অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন