প্রকাশিত: ৫৮ মিনিট আগে, ০৬:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর রামপুরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিনের আরও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-সাবেক র্যাব)। এর আগে বিদেশি পিস্তল গুলিসহ আল-আমিনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছিল একই বাহিনী।
এসআরবি জানিয়েছে, পিচ্চি আল-আমিনের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। তিনি ওই অঞ্চল থেকে ঢাকায় লোক এনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
আল-আমিন কোনো গ্যাংয়ের প্রধান কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আল আমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। আমরা তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের চার জনের বাড়ি একই জেলায় এবং একজনের বাড়ি বরগুনাতে। আমরা অ্যানালাইসিস করে দেখলাম, আল-আমিন তার সমগোত্রীয়, সমমনা বা উনি যাদের সঠিক মনে করেছেন তাদের ঢাকায় এনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
আল-আমিন কারও হয়ে কাজ করতো কিনা বা তার রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আমরা ২০১১ সাল থেকে প্রতিটি সরকারের আমলে তার নামে মামলা পেয়েছি। তার মানে তিনি স্বভাবগত অপরাধী। যেই দলই ক্ষমতায় আসুক তারা সেই সুযোগটা হয়তো তার মাধ্যমে নিতেও পারে। কিন্তু উনি নিজেই নিজের গুণে গুণান্বিত। তবে আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে রামপুরা এলাকার মানুষ খুশি হয়েছে বলেও জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক।
এর আগে এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গত ১ অক্টোবর দুপুর দেড়টায় রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পিচ্চি আল-আমিন ও তার ২ সহযোগী কামাল উদ্দিন এবং খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার এবং ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পিচ্চি আল আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা ৬ টার সময় রাজধানীর রামপুরা থানার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তার অপর ২ জন সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে ২টি দেশীয় অস্ত্র (লোহার তৈরি ছুরি) সহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাওছার খানের কাছে আরও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ওই তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কাওছারের অবস্থান শনাক্ত করে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রামপুরা থানার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁও থানাধীন ভূঁইয়াপাড়া জনৈক শফিকের টিনশেড ঘরের ভেতর থেকে একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় ১ টি বিদেশি রিভলভার, ১ টি বিদেশি পিস্তল এবং ১ টি ম্যাগাজিনসহ ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি আরও জানায়, গ্রেপ্তার পিচ্চি আল আমিন সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার নামে রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ সর্বমোট ২৭টি মামলা রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামিদের নামে থানায় কোনো মামলা পাওয়া যায়নি।
এদিকে এসআরবি-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার লাবনী পয়েন্টের একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সুইচ গিয়ার চাকু মজুত রাখা রয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-২ এর একটি আভিযানিক দল ওই বাসায় বিশেষ তল্লাশি পরিচালনা করে ঈগল মডেলের ১৮০ টি, চিতা মডেলের ২০ টি, মাছরাঙা মডেলের-১২ টি, কমবোর্ড মডেলের চারটি সহ মোট ২১৬ টি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চাকু মজুতদার ও সরবরাহকারী এসএম রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার এসএম রবিন জানান তিনি চকবাজারের একটি দোকান থেকে এই সুইচগিয়ার গুলো কিনে আনতেন। সেখানে আপনারা অভিযান পরিচালনা করবেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
মোহাম্মদপুরের চার্চ থেকে ঘণ্টা চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে যারা জড়িত তাদের ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করছি বিষয়টি আপনাদের পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন