প্রকাশিত: ৫২ মিনিট আগে, ১২:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নওগাঁয় বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের জেরে দুইদিন বন্ধ ও পরে একদিন স্বাভাবিক থাকার পর আবারও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণসহ সব রুটে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন বাস শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গাড়ী বন্ধ রেখে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকদফা আলোচনার পর জেলার অভ্যন্তরিনসহ সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবারও (২৯ সেপ্টেম্বর) নওগাঁর বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা আবারও বাসচালককে মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল ৭টা থেকে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। হঠাৎ এই ধর্মঘটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
এর আগে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে মারধর করেন সিএনজিচালকরা। গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার বিচার ও মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার চলাচল বন্ধের দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর মঙ্গলবার থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল।
বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারে না। তবে এ নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে এসব যান চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের চলাচল বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিকে, সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যেতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
রাজশাহীগামী যাত্রী সবুজ হোসেন বলেন, স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজশাহীতে নিয়ে যাব। বাসস্ট্যান্ডে আসার পর শুনি বাস বন্ধ। এখন এত দূরের রাস্তা কীভাবে যাব, বুঝতে পারছি না। সিএনজিওয়ালারা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চায়। এভাবে বাস বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে যাবে।
পোরশা থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা যাত্রী তারিক হোসেন বলেন, সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর শুনি বাস চলাচল বন্ধ। আদালতে আজ হাজিরা আছে। তিন দফা বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করে এখানে এসেছি। ভাড়া প্রায় ১০০-১৫০ টাকা বেশি লেগেছে। সময়ও অনেক নষ্ট হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হোক।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো তাদের লিখিতভাবে দেওয়া হয়নি। এ কারণে সাধারণ শ্রমিকরা কোনো ভরসা পাচ্ছেন না। বিষয়গুলো লিখিত আকারে দিলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে বাস চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
বাংরাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন