প্রকাশিত: ১৭ ঘন্টা আগে, ০৫:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ৯ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী আবিদা সুলতানা আয়নী হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান আজ সোমবার (২০ জুলাই)এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া পৃথক দুটি ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা আয়নী। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় তার মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির পোশাক ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।
পরে মো. রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। লাশ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শেষে আজ আদালত এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন