প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি জাহাজে লুটের খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড। বাহিনীটির দাবি, আলোচিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটিতে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। বরং কোস্ট গার্ডকে খবর দেওয়ার পর তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ও লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন দিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি জাহাজে লুটের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে উল্লিখিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ডকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। এরপরও সংবাদে ওই জাহাজগুলো থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
কোস্ট গার্ড জানায়, অপর জাহাজটির ক্ষেত্রে চুরির সময় তাদের অবহিত করা হয়নি। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে মালামাল উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী জাহাজটিতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না। এটিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছে কোস্ট গার্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান, মানব পাচার, ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে বহির্নোঙরে ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করা হয়।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে পূর্ব জোনের আওতায় বহির্নোঙর এলাকায় ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়। চোরাকারবারিরা মৎস্য আহরণের আড়ালে এবং বিভিন্ন অজুহাতে বহির্নোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটিত করে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, বাহিনীর জনবল এবং প্রয়োজনীয় বোট ও সরঞ্জামের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সরকারের উদ্যোগে বাহিনীর জন্য দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বাংলাধারা/ ডেস্ক
মন্তব্য করুন