বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষ যেন সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষ যেন কোনোভাবেই সমাজে বিভেদ কিংবা অস্থিরতা তৈরির কারণ না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও বিশ্বাসের মানুষের সহাবস্থানই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। ‘সংখ্যালঘু’ ও ‘সংখ্যাগুরু’ পরিচয়ের বিভাজন না করে সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশে যারা আজ নিজেদের সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচনা করছেন, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে তাদের সবাইকেই অনেক সময় কথিত সংখ্যালঘু হিসেবে দেখা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় তাই সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয়কে মুখ্য করে দেখার সুযোগ নেই। বরং সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে।

রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিককে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অন্যদিকে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।

রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, আস্থা ও আলোচনার ভিত্তিতেই কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো নাগরিক পিছিয়ে থাকবে না। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা। কারণ এই দেশ কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের নয়; এটি সবার।

নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনার অধিকার রয়েছে এবং এটি সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন