প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৭:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিগত শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির শিকার হয়নি। টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের আবহ তৈরি করা হয়।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনে ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব : রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক ডুকমেন্টেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বিগত শাসনব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়নের চরম বহিঃপ্রকাশ ফুটিয়ে তোলা হয়।
সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ গুমের মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন। গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরে দীর্ঘ বন্দিজীবনের নির্মম অধ্যায় বর্ণনা করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরে দীর্ঘ ৭ মাস আটকে রেখে চরম অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে ‘গুম’ শব্দটি প্রথম পরিচিতি পায় এবং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতেই এই অপরাধ করেছিল। তিনি এসব অপকর্মের কঠোর বিচারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আগত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নকে অমানবিক ও জঘন্য বলে আখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার নিজ দেশ রোমানিয়ায় সাবেক শাসক চউশেস্কুর নির্মম দমন নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার প্রধানের শাসনামলের অদ্ভুত মিল রয়েছে। তিনি এই সফর শেষে আইপিইউ-এর গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশে সংঘটিত স্বৈরাচারী শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেবেন বলে জানান।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন