প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জামালপুরের ইসলামপুরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক হত্যার প্রায় আট বছর পর মামলার তিন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. জালাল মিয়া (৪২), মো. নুর ইসলাম (৩২) ও মো. মোজাম্মেল হক (৪৮)। তারা সবাই জামালপুরের ইসলামপুর থানার আগুনের চর এলাকার বাসিন্দা।
রোববার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, গত ২৬ আগস্ট জামালপুরের ইসলামপুর থানার নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে এবং ২৭ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নুর ইসলাম ও কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে ভুক্তভোগী তার স্ত্রী মোছা. তাহমিনা বেগমের সঙ্গে খাবার খেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকেন।
পরে ইসলামপুর থানার চুংরাপাড়া এলাকার পুবেরবন্দ এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভুক্তভোগীর স্ত্রী। সেখানে তিনি মরদেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করে।
সিআইডি জানায়, সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পর মামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করে। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় আসামিদের শনাক্ত করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় তদন্ত কর্মকর্তাদের। এরপর বিভিন্ন গোয়েন্দা কৌশল অবলম্বন করে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলে থাকা তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করে সিআইডি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ছবি দেখে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও আসামিদের ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিআইডি জামালপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫ হাজার পোস্টার লাগায়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর সিআইডি জালাল, নুর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়।
আরও জানানো হয়, এরপর তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক আভিযানিক দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। কয়েক দফা অভিযানের পর ২৬ আগস্ট ইসলামপুরের নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জালাল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে অপর দুই সহযোগী নুর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের সম্পৃক্ততার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তাকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়। জালালের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ঢাকার বিশেষ গোয়েন্দা সহায়তা নেয় সিআইডি। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ আগস্ট টঙ্গী এলাকা থেকে নুর ইসলাম এবং গাজীপুর কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে নুর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের কাছ থেকেও হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তারা আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধের জন্য তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তারা আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তিন আসামিই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল সম্পর্কেও তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
প্রায় আট বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এ মামলার রহস্য উদঘাটনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, ফরেনসিক যাচাই ও বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকভাবে তদন্ত চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিআইডি বলছে, একাধিকবার অভিযান পরিচালনার পর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন