প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:৫৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ছাত্রদলের কমিটিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) আনুমানিক বিকাল ৪টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত থেমে থেমে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে সদর উপজেলা ছাত্রদল। এতে ইয়াছিন আলমকে আহ্বায়ক এবং আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদকে সদস্যসচিব করা হয়। নতুন এ কমিটি ঘোষণার পর পদ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সাগর ও তার অনুসারীরা। তারা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে একটি আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন আলম, সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিল বানচাল করতে পদবঞ্চিত একটি পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে।
সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করিম উদ্দিন বলেন, কমিটি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়নি। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য সোনাপুর-কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জগামী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ও সুধারাম থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন