প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১০:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অটোচালককে হত্যার দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
আজ বুধবার বিকেলে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় প্রদান করেন।
মামলার অন্য একটি ধারায় অভিযুক্তদের আরও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও একবছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় অপর একজনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উভয়দণ্ড একইসঙ্গে কার্যকর হবে বলেও বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বেগুনিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩৫), একই গ্রামের খোদা বক্স মন্ডলের ছেলে মাজেদুল মন্ডল (৩০) ও মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রানা (২৪) এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মোস্তফা মন্ডলের ছেলে লিটন ওরফে মিঠুন মন্ডল (২৯)।
মামলায় অপর আসামি রাজশাহীর বাঘা এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে ৬১ বছর বয়সী মো. শওকত আলী মন্ডলকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে মো. রানা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের দিন থেকে রায় কার্যকর হবে এবং আগে থেকে গ্রেফতারকৃতরা যতদিন হাজতবাস করেছেন সেই সময় দণ্ড থেকে মওকুফ পাবেন। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তি সাপেক্ষে মোট টাকার মধ্যে তিন লাখ টাকা আদালতের মামলার ব্যয়ভার রেখে বাকিটা বাদীকে প্রদান করা হবে।
নাটোর জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামের জিয়া সর্দারের ছেলে মো. প্রান্ত (১৬) চার্জারভ্যান গাড়ি চালাতেন।
২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে তিন ব্যক্তি আড়ানি বাজার থেকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা বাজারে আসার কথা বলে তার ভ্যানটি ভাড়া করে। সেই রাতে আর প্রান্ত বাড়ি ফিরে আসেনি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের একটি ফসলি জমিতে তার হাত-পা বাঁধা ও মুখের মধ্যে কাপড় গুজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত প্রান্তের বাবা জিয়া সর্দার সেদিনই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আসামিরা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ১৭ জন সাক্ষির দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আজ এই রায় দেন বিচারক।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন