বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১১:৫৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বছর শেষে অর্জিত হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার।

মন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর ধরেই দেশের রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে চলতি অর্থবছরে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং উন্নত দেশগুলোর ভোগব্যয় হ্রাসের মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও রপ্তানিমুখী শিল্পকে উৎসাহ দিতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে একটি আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব রপ্তানি খাতে পড়বে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। এ জন্য উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাস্তবিক অর্থে কোনো নতুন পরিবর্তন হয়নি।

তার ভাষ্য, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করলেও পরে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন উচ্চ আদালতের রায়ের পর সেই ব্যবস্থা বাতিল হয়।

তিনি জানান, এরপর যুক্তরাষ্ট্র সেকশন ১২২-এর আওতায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। এ তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, শুল্ক কাঠামোর আইনি ভিত্তি পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশের জন্য কার্যকর শুল্কের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে নতুন করে দেশের রপ্তানি খাতে অতিরিক্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন