মন্ত্রিসভায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬, ০৮:০৭ সকাল
ছবি: সংগৃহিত
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতি টেনে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ হিসেবেই পাকিস্তান এই অবস্থান নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করেছি,ভারতের বিরুদ্ধে আমরা খেলব না। খেলার মাঠে কোনো ধরনের রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেচিন্তে, দায়িত্বশীলভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তটি যথাযথ বলেই আমি মনে করি।
এর আগে, ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। শুরু থেকেই পাকিস্তান প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়।
তবে শুরুতে এই বয়কটের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর ব্যাখ্যা দেন এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বিষয়টি সামনে আনেন।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ওই ম্যাচে অংশ নেবে না।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি পাকিস্তানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে। আইসিসির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য জরিমানা, পয়েন্ট কাটা বা অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কী প্রভাব ফেলবে এবং আইসিসি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি।
বাংলাধারা/এসআর
