ঢাকা, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ট্রাম্পকে ছাড় দেওয়া হবে না, তাকে মাশুল গুনতেই হবে : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৮, ২০২৬, ১০:৩৪ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভুল আন্তর্জাতিক কৌশল’কে দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, এই সংকটের জন্য ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত মূল্য দিতে হবে এবং সেই দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত ইরান পিছু হটবে না।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ভুল কৌশলগত হিসাব-নিকাশের ফল।

লারিজানির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, অন্য অঞ্চলে যেভাবে তিনি চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যবহার করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যেও একই পদ্ধতি কার্যকর হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনাই এখন উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করছে এবং সেই পরিস্থিতি থেকে সহজে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে লারিজানি স্পষ্ট করে জানান, ইরান এই সংঘাতের দায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অব্যাহতি দেবে না। তার ভাষায়, “আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না। যে ভুল তিনি করেছেন, তার জন্য তাকে মাশুল গুনতেই হবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

এর ঠিক পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।

এই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং এর প্রভাব ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তার লাভ করছে।

বাংলাধারা/এসআর