প্রকাশিত: ৫৩ মিনিট আগে, ১১:৪০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
প্রেমের পথে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য যখন হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাধা, তখন সেই সম্পর্কের পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেই গল্পই নিয়ে পর্দায় ফিরছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় দুই তারকা মাহিরা খান ও ওয়াহাজ আলী। অতীতের ক্ষত, সামাজিক মর্যাদার সংঘাত, অপমান আর প্রতিশোধের আবর্তে নির্মিত নতুন ধারাবাহিক ‘মিট্টি দে বাওয়ে’ ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
ধারাবাহিকটিতে মাহিরা খানকে দেখা যাবে ‘বিলকিস’ ওরফে ‘বিল্লা’ চরিত্রে। প্রভাবশালী ও বিত্তশালী পরিবারের মেয়ে বিল্লার জীবনে অর্থ ও সামাজিক মর্যাদার কোনো অভাব নেই। অন্যদিকে ওয়াহাজ আলী অভিনয় করছেন ‘বালা’ চরিত্রে। আর্থিক সংকট আর প্রতিকূলতাই যার নিত্যদিনের বাস্তবতা।
মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ঢোলক বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে বালা। একদিকে বিল্লার পারিবারিক অহংকার, অন্যদিকে বালার আর্থিক অসচ্ছলতা ও আত্মগ্লানি, দুই বিপরীত বাস্তবতা তাদের সম্পর্কের মাঝে তৈরি করে গভীর দূরত্ব। সামাজিক অবস্থানের এই ব্যবধানই ধীরে ধীরে তাদের গল্পকে নিয়ে যায় তিক্ততা ও সংঘাতের দিকে।
ধারাবাহিকটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে গল্পটি কেবল ধনী-গরিবের বৈষম্য কিংবা প্রেমের টানাপোড়েনে আটকে নেই। বরং সময়ের সঙ্গে এটি মোড় নেয় আরও অন্ধকার ও প্রতিশোধনির্ভর এক অধ্যায়ের দিকে।
গল্পের একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ে জেল খাটতে হয় বালাকে। এরপর বদলে যেতে থাকে দুজনের জীবন। সময়ের স্রোতে বিল্লার জীবনেও আসে আমূল পরিবর্তন। একপর্যায়ে তাকে দেখা যায় আধ্যাত্মিক গুরু বা পীরের ভূমিকায়।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বহুদিন পর আবারও মুখোমুখি হয় বিল্লা ও বালা। কিন্তু সময় তাদের পুরোনো ক্ষত মুছে দিতে পারেনি। বরং অতীতের অপমান, ক্ষোভ ও জমে থাকা প্রতিহিংসা নতুন করে জেগে ওঠে। পুরোনো সম্পর্ক তখন রূপ নেয় ক্ষমতা ও প্রতিশোধের এক জটিল খেলায়।
টিজারের শেষ দৃশ্যে সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেখানে বিল্লার কণ্ঠে শোনা যায়, নিজের জীবন ধ্বংস হয়ে গেলেও বালাকে শান্তিতে বাঁচতে দেবেন না তিনি। এই একটি সংলাপই ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে অপেক্ষা করছে প্রেমের পাশাপাশি আধিপত্য, প্রতিশোধ ও ব্যক্তিগত সংঘাতের এক তীব্র লড়াই।
মাহিরা খান ও ওয়াহাজ আলীর জুটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও ধারাবাহিকটির অন্যতম আকর্ষণ। দুই তারকার অভিনয় এবং চরিত্রের বৈপরীত্য গল্পটিকে কতটা শক্তিশালী করে তুলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
টিজার প্রকাশের পর নাটকটি নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ‘মিট্টি দে বাওয়ে’-এর প্রচারের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি প্রযোজনা সংস্থা। তবে গল্পের অন্ধকার আবহ, শ্রেণিবৈষম্য, প্রেম ও প্রতিশোধের সমীকরণে ধারাবাহিকটি দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন