প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বেপারী বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক ও নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম আদালতের পরিচিত ব্যবসায়ী মোঃ ফারুকের কষ্টার্জিত উপার্জনে সদ্য নির্মিত নতুন বসতঘরটিতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেই জমকালো আয়োজনে নতুন ঘরটির উদ্বোধন করেছিলেন ব্যবসায়ী ফারুক। জীবনের সমস্ত জমানো পুঁজি ও ঘামঝরা উপার্জনে গড়ে তোলা স্বপ্ননীড়টি এখন শুধুই এক স্তূপ ছাই। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা লাখ লাখ টাকার মূল্যবান ফার্নিচার ও সমস্ত মালামাল ভস্মীভূত হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র জনক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই ভিটা ও পাশাপাশি ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অবস্থান করা সত্ত্বেও এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে কেউ নাকি টের পায়নি—এ নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে ফারুকের আপন ছোট ভাই মীর হোসেন এবং বোন রাশেদা এ নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রবল সন্দেহ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চালালেই এ ঘটনার মূল রহস্য ও নেপথ্যের কারিগরদের নাম বেরিয়ে আসবে।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার সারা জীবনের আয়-রোজগার দিয়ে এই ঘরটি বানিয়েছিলাম। ঘর নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দোকানদারদের বকেয়া টাকাও এখনো পুরোপুরি শোধ করতে পারিনি। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে; এখন পোড়া ঘরটি মেরামত করার মতো আর্থিক সামর্থ্যও আমার নেই। অভিযুক্তরা আমারই আপন ছোট ভাই-বোন, এলাকার মানুষ নানা কথা বললেও আমার বিশ্বাস হতে চাইছে না যে তারা এমন কাজ করতে পারে। তবে যে-ই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। এ বিষয়ে আমি শীঘ্রই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করব।ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতস্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক ও সচেতন এলাকাবাসী।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন