বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল

বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভোটি কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দেশটির একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রও।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ায় নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি- দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতের জাতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। কিন্তু বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই সরবরাহ এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

*কাঠমান্ডু পোস্ট* জানায়, বন্যার পর নেপালের বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতেও। শুষ্ক মৌসুমেও নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

নেপাল দীর্ঘদিন শীতকালে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় আমদানিনির্ভর ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে দেশটি শুধু নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণই করছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাজারে রপ্তানিকারক হিসেবেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া দুটি প্রকল্পের মধ্যে ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলমি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। ভোটি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় প্রকল্প দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে সেগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এই দুটি প্রকল্প থেকেই ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবহার করে মার্কিন ডলারের বিনিময়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হচ্ছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ *কাঠমান্ডু পোস্টকে* বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতের গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ভোটি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যা শুধু প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিই ঘটায়নি, নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়েছে দেশটির আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিতেও। ফলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগও আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন