প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১২:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শেয়ারবাজারে কারসাজি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমান সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থাকে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো শেয়ারের দাম বা লেনদেনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা তৈরি হবে। প্রয়োজন হলে দ্রুত লেনদেন বন্ধ বা স্থগিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে। এতে নজরদারির গতি বাড়ার পাশাপাশি মানুষের সুযোগসন্ধানী হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য পক্ষপাত কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বর্তমান বাজার অবকাঠামোয় এমন ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব। কারণ, শুধু এআই সফটওয়্যার স্থাপন করলেই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর হয় না। এর জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক তথ্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডারের মধ্যকার সংযোগ, গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ কেওয়াইসি তথ্য, শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল। বর্তমানে ডিএসইর সার্ভিল্যান্স বিভাগ রিয়েল-টাইম বাজারের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক মূল্য ও লেনদেনের গতিবিধি শনাক্ত করে থাকে। গত জুন মাস থেকে প্রায় এক দশক পর রিয়েল-টাইম সার্ভিল্যান্সের ভিত্তিতে কয়েকটি কোম্পানির লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, শ্যামপুর সুগার মিলস ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর সাময়িক লেনদেন বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা পিএসআই আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর সন্দেহজনক লেনদেন বা কারসাজির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করা হয়। অর্থাৎ প্রযুক্তি প্রাথমিক সংকেত দিতে পারলেও চূড়ান্ত যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এখনও মানুষের ভূমিকা মুখ্য।
সম্প্রতি স্টার অ্যাডহেসিভসের শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় ডিএসইর সার্ভিল্যান্স প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিএসইসি তদন্ত করে। তদন্তে সিরিজ ট্রেডিং-এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের চাহিদা তৈরির অভিযোগ ওঠে এবং এ ঘটনায় এফএ ট্রেডিং করপোরেশনকে জরিমানা করা হয়।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন