প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৬:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা স্থবির পর্যায়ে ছিল এবং তা কাটাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে আনার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে, মন্ত্রীর এমন দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কমিটির নেতারা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্থবির ছিল, এমন দাবি কোনোভাবেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও দেশীয় দক্ষ জনশক্তির নিরলস শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় বন্দর তার কার্যক্রম সচল রেখেছে। পাশাপাশি কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও ধারাবাহিকভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রের সতর্ক সংকেতের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দরের কার্যক্রম সচল রেখেছেন উল্লেখ করে নেতারা বলেন, বন্দরের আয় ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও একে ‘স্থবিরতা’ বলা অসংগতিপূর্ণ।
বন্দরের আধুনিকায়নের পক্ষে মত দিয়ে নেতারা জানান, বন্দরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই অজুহাতে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিদেশি প্রযুক্তি বা কারিগরি জ্ঞান গ্রহণের বিরোধিতা তারা করছেন না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামোর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ, রাজস্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রভাব প্রকাশ্যে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা। অতীত কিংবা বর্তমান সরকারের যে–কোনো সিদ্ধান্তই জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন নেতারা।
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, লাভজনক কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের প্রকৃত সক্ষমতা, আয় ও দেশীয় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রকাশ করতে হবে।
জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়, বরং দেশের শ্রমিক-কর্মচারী ও দেশীয় জনশক্তিকে সঙ্গে নিয়েই বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চায় বন্দর রক্ষা কমিটি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নেতারা জানান, আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন