প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৪:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার কোনো নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
পাউবোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহজুড়ে জেলার নদ-নদীর পানি কমছিল। তবে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৯ জুলাই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ মিটার নিচে নেমে গিয়েছিল। এর আগে ২৯ জুন ও ১৪ জুলাই দুই দফায় নদীটির পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পানি কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। এই ওঠানামার কারণেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার চারটি উপজেলায় অন্তত ৪৫টি স্থানে ভাঙন চলছে। দুই সপ্তাহ আগেও ভাঙনের পয়েন্ট ছিল ২৫টি।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায়। ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালীরখামার এলাকার শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, দক্ষিণ রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এবং ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর এবং চর চৌমোহনেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
নতুন করে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ও জিওব্যাগ ধসে দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষিরভিটা গ্রামেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কামারজানির গোঘাট এলাকার বাসিন্দা মাহাবুর আলম বলেন, ‘হঠাৎ রাতে দুটি স্থানে নদীতীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে ভাঙন শুরু হয়। পরে পাউবো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করেছে।’
সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের লালচামার ও কেরানির চর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন হচ্ছে।’
ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী মণ্ডল বলেন, মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর এবং চর চৌমোহনসহ কয়েকটি এলাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। পানি বাড়া-কমার কারণেই ভাঙন আরও বেড়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবরও রাখা হচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর তীরবর্তী এলাকায় ৪৫টি পয়েন্টে ভাঙন রয়েছে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৩৪ থেকে ৩৫টি পয়েন্টে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। বাকি এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন