বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৮:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা, মামলার পর দাবি ৫০ লাখ

ছবি; সংগৃহিত

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার পর এবার তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে ফের হামলা চালানোরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, মামলা করার পরই সন্ত্রাসীরা আবার ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে টাকা না দিলে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
জসিম উদ্দিন বলেন, তারা আগে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এখন মামলা করার পর চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছেন। টাকা না দিলে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়-ভাটিয়ারী লিংক রোডসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলায় এক নির্মাণশ্রমিক কিরিচের আঘাতে আহত হন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করা হয় এবং ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক, আবাসন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে চাঁদা দাবি করার ঘটনায় বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী জানায়, চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের কুখ্যাত শীর্ষ সাজ্জাদ আলী খান, যিনি বড় সাজ্জাদ নামে পরিচিত। ২০০০ সালের বহদ্দারহাটে আট ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের পর আলোচনায় আসেন। পরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও ২০০৪ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করেও বড় সাজ্জাদ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চট্টগ্রামে তার অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন, আবাসন ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের লক্ষ্য করে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার বাহিনীর কয়েকজন সহযোগী গ্রেপ্তার বা নিহত হলেও বিদেশে অবস্থানকারী মূল হোতাকে আইনের আওতায় আনা না যাওয়ায় নেটওয়ার্কটি পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন