বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৪১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, ঘাটে নেই আগের সেই হাঁকডাক

ছবি; সংগৃহিত

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না। ইলিশের সংকটে খাঁ খাঁ করছে চাঁদপুরের মাছঘাট ও আড়তগুলো। ঘাটে নেই আগের মতো ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। ফলে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অনেক জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে যে পরিমাণ খরচ করছেন, সেটুকুও তুলতে পারছেন না। অন্যদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে। এতে হতাশ জেলে-ব্যবসায়ীরা, আর কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে অতৃপ্ত ক্রেতারাও। চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকার মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। অল্প যে পরিমাণ ইলিশ আসছে, সেগুলোর দামও বেশ চড়া। ফলে ভরা মৌসুমেও অনেক মানুষের পাতে উঠছে না জাতীয় মাছ ইলিশ।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ভরা মৌসুমে চাঁদপুর মাছঘাটে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১৫০ মণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ১ কেজির ইলিশ ২ হাজার ৭০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক সময় এক সময় এই ঘাটে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ আমদানি হতো। প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মণ পর্যন্ত ইলিশের সরবরাহ হতো। ফলে চাঁদপুরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও ইলিশ সরবরাহ করা হতো। 
চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা সফিক বলেন, মাছের ভরা মৌসুম। ইলিশ নিতে ঘাটে এসেছি। দাম অনেক বেশি হওয়ায় এক কেজি কিনেছি। দাম বেশি হওয়ায় অতৃপ্তি থেকেই গেল। 
আরেক ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, মাছ কিনতে এসে হতাশ হয়েছি। দাম অনেক চড়া।
চাঁদপুর মাছঘাটে আসা হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে করিম মিয়া বলেন, জাল নিয়ে নদীতে নেমেছি। রাতভর জাল টেনে যে পরিমাণ মাছ পেয়েছি, তাতে আমাদের খরচের টাকাই উঠছে না। অনেক আশা নিয়ে ইলিশ ধরতে নেমে এখন হতাশ হতে হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও নদীতে ইলিশ না পেলে পরিবার নিয়ে চলাই কষ্ট করে হয়ে যাবে।
ঘাটের আড়তদার নুর আলম বলেন, বর্তমানে আমাদের এখানে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ৫০ ভাগের এক ভাগ ইলিশও আসে না। ফলে আমরাও হতাশায় ভুগছি। 
ইলিশ বিক্রেতা নবীর হোসেন বলেন, ইলিশের মৌসুমের তিন মাস আমরা সারা বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। ইলিশ ধরার জন্য জেলেদের লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে থাকি। কিন্তু ভরা মৌসুমে মাছ না আসায় এবার লোকসান হচ্ছে। বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ আসে, তা বিক্রির আয় দিয়ে কর্মচারীদের বেতন ও দোকানভাড়া পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইলিশের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাও কমেছে। সব মিলিয়ে আমরা হতাশায় আছি।
তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হলে জাটকা রক্ষা করতে হবে। নদীতে বালু উত্তোলনও বন্ধ করতে হবে।
ইলিশের আড়তদার সম্রাট বেপারী বলেন, নদীতে মাছের সংকটের কারণে এখন কর্মচারীও পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কিছু মাছ ঘাটে আসে। ফলে কর্মচারীদের দিনে অল্প সময় কাজ থাকে, বাকি সময় বসে থাকতে হয়। এ কারণে তারা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সরকার যদি কারেন্ট জাল, মশারি জালসহ অবৈধ জালের কারখানাগুলো বন্ধ করতে পারে, তাহলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া সাগরে কিছু ট্রলিং ট্রলার রয়েছে, যেগুলো দিয়ে ছোট ইলিশ ধরে ফেলা হচ্ছে। এসব ট্রলার বন্ধ করতে হবে। তাহলেই ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, চাঁদপুর মাছঘাটে দিন দিন ইলিশের সরবরাহ কমছে। যেভাবে ইলিশের সরবরাহ কমে যাচ্ছে, যেকোনো সময় এখানে ইলিশের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকার এখনই কোনো পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ইলিশের ব্যবসায় কেউ আর আসতে চাইবে না। ইলিশ আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তারা এখন হতাশাগ্রস্ত।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নদীতে আগের মতো নাব্যতা ও স্রোত নেই। ফলে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর ডুবোচর চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ডুবোচর অপসারণের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন