প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১২:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাবে না, ততদিন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার রাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়নি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত কোনো মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায়নি ইরানের বাহিনী। এর আগে টানা ১৩ দিন ধরে দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছিল।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রাখবে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে ইতোমধ্যে আমাদের অবস্থান জানানো হয়েছে।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সংঘাতের বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থান নেয় তেহরান। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ে।
ইরান ঘোষণা দেয়, দেশটির ভূখণ্ডসংলগ্ন এই প্রণালি ব্যবহার করে অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলে ভবিষ্যতে টোল দিতে হবে। তবে এ অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্র।
এদিকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে টানা ১৩ দিনের হামলা ও পাল্টা হামলার সূচনা হয়।
সাম্প্রতিক দুই দিনের হামলা বিরতি নিয়ে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও কিছুটা সুযোগ দিতে চান। সে কারণেই হামলায় সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন