বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৮:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা, অচল জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দিকে যাওয়ার অভিযোগে হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওমান উপসাগর থেকে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এ কারণে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল। গত জুলাইয়ে ১৩ দিনের তীব্র উত্তেজনার পর সরাসরি হামলা অনেকটাই কমে এসেছিল। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের কার্গো জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার লক্ষ্য ছিল জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে একাধিক সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটির নাবিকেরা তা উপেক্ষা করেন। পরে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে।

হামলায় জাহাজের কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করার সময় এ পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাত পুনরায় তীব্র হওয়ার পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানও তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগে জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ, দুই পক্ষের কিছু পদক্ষেপই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য নতুন করে আলোচনা শুরু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। তবে সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের জাহাজে হামলার ঘটনা। ফলে হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব, দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথেই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে সর্বশেষ মার্কিন হামলার ঘটনা তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, সামুদ্রিক অবরোধ এবং দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার নতুন বাস্তবতাই এর মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন