বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৫:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

৫৯ বছরেও গোলের হাসি, ‘কিং কাজু’ যেন সময়কে হার মানালেন

ছবি: সংগৃহীত

বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, এই বহুল প্রচলিত কথাটিই আবারও সত্য প্রমাণ করলেন জাপানের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজুইয়োশি মিউরা। ৫৯ বছর বয়সে এসে প্রায় চার বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে গোল করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পেশাদার ফুটবলার, যিনি সবার কাছে পরিচিত ‘কিং কাজু’ নামে।

শনিবার জাপানের এম্পেরর্স কাপে তৃতীয় বিভাগীয় ক্লাব ফুকুশিমা ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নেমে ৫২তম মিনিটে জালের দেখা পান মিউরা। তার গোলে উজ্জীবিত হয়ে আইওয়াকি ফুরুকাওয়াকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় ফুকুশিমা।

গোল করার মাত্র তিন মিনিট পরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ। মাঠ ছাড়ার আগে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস আর দর্শকদের করতালিতে ভেসে যান এই ফুটবল কিংবদন্তি।

২০২২ সালের নভেম্বরে সুজুকা পয়েন্ট গেটার্সের (সাবেক সুজুকা পিজি) হয়ে জাপান ফুটবল লিগে এফসি ওসাকার বিপক্ষে গোল করার পর এটাই ছিল মিউরার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক গোল। যদিও সেই ম্যাচে তার দল পরাজিত হয়েছিল।

জাপানের সাবেক এই আন্তর্জাতিক ফুটবলার এখন নিজের ক্যারিয়ারের ৪২তম মৌসুম খেলছেন। গত ডিসেম্বরে ইয়োকোহামা এফসি থেকে ধারে ফুকুশিমা ইউনাইটেডে যোগ দেন তিনি। চলতি ২০২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন। এরই মধ্যে নিজের মূল ক্লাব ইয়োকোহামা এফসির সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তিও নবায়ন করেছেন।

মিউরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তিনি ফুটবলকে বিদায় বলবেন না। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন তিনি। সর্বশেষ গোলটি যেন সেই অঙ্গীকারেরই আরেকটি প্রমাণ। বয়সের ভার তাকে থামাতে পারেনি; বরং এখনো তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, শুধু দর্শকদের অনুপ্রাণিত করতেই নয়, গোল করেও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেন।

সাধারণত ৪০ বছরের পরই অধিকাংশ পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে। সেখানে ষাটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এখনো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে গোল করা নিঃসন্দেহে এক বিরল কীর্তি। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু জনগোষ্ঠীর দেশ জাপানের জীবনযাপন ও শৃঙ্খলাবোধের প্রতিফলন হয়তো মিউরার ক্যারিয়ারেও দেখা যায়। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই তাকে আজও মাঠে রাখার সবচেয়ে বড় শক্তি।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন