বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘দ্য ওডিসি’ প্রিমিয়ারে নোলান বন্দনায় হলিউড তারকারা, মুক্তির অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে দর্শক

ছবি: সংগৃহিত

হোমারের কালজয়ী মহাকাব্য *দ্য ওডিসি* অবলম্বনে নির্মিত ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডনে। সেখানে ছবির কলাকুশলী থেকে শুরু করে হলিউডের তারকারা একবাক্যে প্রশংসা করেছেন অস্কারজয়ী এই নির্মাতার।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত জাঁকজমকপূর্ণ প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রধান অভিনয়শিল্পীরা। আগামী ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে বহু প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্র।

প্রিমিয়ারে অংশ নেন ম্যাট ডেমন, জেনডায়া, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, শার্লিজ থেরন, লুপিতা নিয়ং'ও, জন লেগুইজামো, বেনি স্যাফডি, হিমেশ প্যাটেল, সামান্থা মর্টন, এলিয়ট পেজ, ট্র্যাভিস স্কট, মিয়া গথ ও কোরি হকিন্সসহ ছবির প্রায় সব তারকা।

এর মধ্যে ম্যাট ডেমন, অ্যান হ্যাথাওয়ে ও রবার্ট প্যাটিনসনের জন্য এটি নোলানের সঙ্গে পুনর্মিলনের ছবি। অন্যদিকে জেনডায়া, টম হল্যান্ড ও শার্লিজ থেরনের সঙ্গে নোলানের এটি প্রথম কাজ। তবে অভিজ্ঞতা সবার কাছেই ছিল সমান রোমাঞ্চকর।

ছবিতে ওডিসিউস চরিত্রে অভিনয় করা ম্যাট ডেমন বলেন, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা যেন একসঙ্গে ছয়-সাতটি সিনেমায় কাজ করার মতো ছিল। প্রতিটি লোকেশন ছিল আলাদা চ্যালেঞ্জে ভরা। তিনি মজা করে জানান, শুটিং শুরুর এক মাস পর নোলানের স্ত্রী ও ছবির প্রযোজক এমা থমাসকে তিনি বলেছিলেন, "ধন্যবাদ, অন্তত আমি প্রযোজক নই।"

ডেমন আরও বলেন, নোলান যখন তাকে ওডিসিউস চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, তখন থেকেই তিনি গভীর কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত। তার ভাষায়, "এটাই আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এত বড় পরিসরের প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণ আগে কখনো দেখিনি।"

'টেনেট'-এর পর আবারও নোলানের সঙ্গে কাজ করেছেন রবার্ট প্যাটিনসন। তিনি বলেন, "এত বিশাল আয়োজনের কাজ হলেও নোলানকে কখনো বিচলিত মনে হয়নি। সবকিছু অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। পুরো অভিজ্ঞতাই অসাধারণ।"

এই ছবিতেই প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনের আলোচিত জুটি জেনডায়া ও টম হল্যান্ড। দেবী অ্যাথেনার চরিত্রে অভিনয় করা জেনডায়া বলেন, টেলেম্যাকাস চরিত্রে টমের অভিনয় তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।

"ওর অভিনয় সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। দর্শক খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে টমের সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চরিত্র দেখতে পাবেন, যা নিয়ে আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত," বলেন তিনি।

টম হল্যান্ডও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "এটি আমাদের দুজনের জন্যই একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। আর সম্ভবত এটাই শেষবার, যখন আমি কোনো কিশোর চরিত্রে অভিনয় করলাম।"

ছবিতে ক্যালিপসোর ভূমিকায় অভিনয় করা শার্লিজ থেরনের মতে, "এমন বিশাল ক্যানভাসের গল্প পর্দায় আনার সাহস খুব কম পরিচালকের আছে। নোলান সেই বিরল নির্মাতাদের একজন।"

ওডিসিউসের বিশ্বস্ত সঙ্গী ইউমেয়াস চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন লেগুইজামো। তিনি বলেন, "আমার কাছে 'দ্য ওডিসি' নোলানের সেরা কাজ। তিনি আধুনিক যুগের হোমার। তার মতো দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করা আমার অভিনয়জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।"

আগামেমননের চরিত্রে অভিনয় করা বেনি স্যাফডি জানান, চরিত্রটির প্রস্তাব পেয়ে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। তবে নোলানের আত্মবিশ্বাসই তাকে চরিত্রটি গ্রহণে সাহস জুগিয়েছে।

এদিকে র‍্যাপার ট্র্যাভিস স্কট, যিনি ছবিতে একজন গীতিকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, বলেন, "নোলানের ফোন পাওয়া যেন নিজের প্রিয় কোনো সুপারহিরোর কাছ থেকে ডাক পাওয়ার মতো অনুভূতি।"

প্রিমিয়ারে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাদা করে কথা না বললেও সিনেমা হলের ভেতরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ক্রিস্টোফার নোলান। সেখানে তিনি রসিকতা করে বলেন, "যারা ভোরে উঠে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ দেখেছেন, তারা যেন সিনেমার শান্ত দৃশ্যগুলোতে ঘুমিয়ে না পড়েন!"

উল্লেখ্য, ‘দ্য ওডিসি’ ইতিহাসের প্রথম চলচ্চিত্র, যার পুরো দৃশ্যায়ন হয়েছে আইম্যাক্স ৭০ মিলিমিটার ক্যামেরায়। মুক্তির আগেই ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ফলে বক্স অফিসেও এটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন