বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৫:২৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

৩ দিনের মধ্যে বিপৎসীমা ছুঁতে পারে তিস্তা, ১২ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহিত

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পাশাপাশি দেশের অন্তত ১২ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত কেন্দ্রটির বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৮টি কেন্দ্রে নদীর পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো কোনো নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের উজানের নদীগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া নারায়ণহাটে ১৬৫, টেকনাফে ১৫৮, কক্সবাজারে ১২৯, রামগড়ে ১০৫, বান্দরবানে ১০২, মহেশখোলায় ১০১, পাঁচপুকুরিয়ায় ৯৫, লামায় ৯৩ এবং ফেনীর পরশুরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩, কে এম সোহরায় ১৪১, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাগুলোও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে এফএফডব্লিউসি। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে, যার ফলে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী দুই দিনে আবার বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বৃদ্ধি পেলেও পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। সব মিলিয়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো আপাতত বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন