আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ছাড়াল ৩ হাজার ৫০০, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি: সংগৃহিত

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। দুর্যোগের দুই সপ্তাহ পরও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও দেখা দিয়েছে নতুন স্বাস্থ্যসংকটের আশঙ্কা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার দেশটির আইনপ্রণেতা জর্জ রদ্রিগেজ সর্বশেষ সরকারি তথ্য তুলে ধরে জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৪০ জনে। এছাড়া অন্তত ১৭ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে স্থাপিত ৮০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।

গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়ায়। এতে রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। সরকারি হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে দুর্যোগের পর নতুন করে জনস্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাজার হাজার মানুষ এখনো অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবার অভাবে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

কারাকাসের হোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজ হাসপাতালের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিয়ো কোভা বলেন, দীর্ঘ সময় দুর্যোগকবলিত পরিবেশে অবস্থানের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে মানুষ ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। এখন সংক্রামক রোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে লা গুয়াইরার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন