প্রকাশিত: ৫৩ মিনিট আগে, ০৯:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হাজীদের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ‘শফিক ওভারসিজ’ (আরএল-১৪১৫) এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ও মূল হোতা শফিকুল ইসলামকে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে প্রডাকশন ওয়ারেন্টের (PW) মাধ্যমে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রতারণার অভিনব কৌশলতদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন জেলায় কতিপয় ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। এই চক্রটি সহজ-সরল সাধারণ মানুষকে হজে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কষ্টের জমানো টাকা আত্মসাৎ করত। দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার তর্পনঘাট এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি পূর্বে দুটি মামলায় (সিআর ৩২/১৭ ও সিআর ১১২/১৭) যথাক্রমে ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডসহ এক বছরের এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডসহ এক মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দিনাজপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন।পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ৩ নম্বর বেংহারী ইউনিয়নের ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাসিবুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—
শফিকুল ইসলাম (৫০), স্বত্বাধিকারী, শফিক ওভারসিজ।আরাফাত সরকার (৫১), সাহাপাড়া, ভুল্লি, ঠাকুরগাঁও (আরাফাত সরকারের একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা রয়েছে)।
আব্দুল জলিল (৪০), ঝলঝলি, বোদা, পঞ্চগড় (তিনি নবাবগঞ্জ থানার মল্লিকপুর/মলমের বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন)।
বাদী হাসিবুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের রমজান মাসে ওমরাহ হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুল জলিলের মাধ্যমে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের আরাফাত সরকারের সঙ্গে পরিচিত হন। ওমরাহ না পাঠিয়ে পরবর্তীতে তাকে পূর্ণাঙ্গ হজের প্রলোভন দেখানো হয় এবং মোয়াল্লেমের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে বলা হয়।
টাকা দেওয়ার পর থেকেই আসামিরা টালবাহানা শুরু করেন এবং ফোন ধরতে অস্বীকৃতি জানান। ভুক্তভোগী উপায় না পেয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। হজ অফিস থেকে একাধিকবার সময় নিয়েও টাকা ফেরত না দেওয়ায়, যুগ্ম সচিব লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীকে নিজ জেলায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।আদালতের পদক্ষেপ ও আসামিদের বর্তমান অবস্থাহজ অফিসের প্রতিবেদন নিয়ে ভুক্তভোগী হাসিবুল ইসলাম পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর আগে মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে। পরবর্তীতে তারা অপরাধ স্বীকার করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে জামিন লাভ করেন।এদিকে ১ নম্বর আসামি শফিকুল ইসলাম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দিনাজপুর কারাগারে বন্দি আছেন। পরবর্তীতে আদালতের ইস্যুকৃত পিডাব্লিউ (PW) মূলে তাকে পঞ্চগড় আদালতে হাজির করা হয়।বাদী হাসিবুল ইসলাম বলেন, "আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। এই চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে আমার মতো সরল মানুষের স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, এই প্রতারক চক্রের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো হজে ইচ্ছুক ব্যক্তির স্বপ্ন এভাবে নষ্ট না হয়।"
বাংলাধারা/মোঃ রুবেল ইসলাম
মন্তব্য করুন