বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:৪২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বেজে উঠল সাইরেন; মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে জরুরি সতর্কতা হিসেবে সাইরেন বাজানো হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম **আল জাজিরা**র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরানের হামলার ঠিক আগে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ **কিশ** ও **কেশম** দ্বীপে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানায় আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দিন ধরেই দ্বীপ দুটিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।

বিশেষ করে কেশম দ্বীপ ইরানের সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে বড় এই দ্বীপটি পারস্য উপসাগরের নৌপথ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। ফলে দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালায়, তবে অতীতের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা শহরে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, *"সেই দিন শেষ হয়ে গেছে, যখন কেউ আমাদের আঘাত করত আর আমরা তার দ্বিগুণ শক্তিতে জবাব দিতাম না।"* তাঁর এই বক্তব্যকে তেহরানের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানকে কেন্দ্র করে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, গত সপ্তাহ থেকে তা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তেহরান। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

 


বাংলাধারা/শারমিন
 

মন্তব্য করুন