প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীতে উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহিত

রাজবাড়ীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধীরগতি, পৌরসভার বেহাল অবস্থা এবং চরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়নকাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় রাজবাড়ী শহরের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার সার্বিক অবস্থা উদ্বেগজনক। শহরের সড়কগুলো বেহাল, পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন মার্কেটের নিচে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পৌরসভাকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে চিকিৎসক সংকট দূর করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড়পুল থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়ক সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনতে হবে। বাজার থেকে গোদারবাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে পরিকল্পিতভাবে মার্কেট নির্মাণ, ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক ও ১০ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাজার এলাকায় যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তার ওপর ভ্যানে ব্যবসা এবং ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো বন্ধ করতে হবে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি।
সড়ক বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজের গতি সন্তোষজনক নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত এসব প্রকল্পের সুফল পায়। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও মান বজায় রেখে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎসহ মৌলিক সেবাগুলো চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। 
তিনি বলেন, চরাঞ্চলের প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। টেকসই সড়ক, ঘাট ও নৌ-যোগাযোগ উন্নত করা গেলে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, রাজবাড়ীর সার্বিক উন্নয়নে সব সরকারি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দীর্ঘসূত্রিতা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত উন্নয়নের সুফল পায়।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন