ঢাকা, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস ইসির.

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬, ০৪:৪৭ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশে নিষাধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি).

এর আগে, রোববার নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ায় বিধি-নিষেধ আরোপের কথা জানায় । এদিন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, আনসার ও  সাধারণ আনসার বা ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দু’জন আনসার সদস্য ফোন রাখতে পারবেন। এছাড়া অন্যরা কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে ।

ইসির এই নির্দেশনা আসার পরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। এ বিষয়টিকে ইসির হঠকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায় টেলিভিশন সাংবাদিকদের প্রধান সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেওয়া যাবেনা- নির্বাচন কমিশনের এই সাম্প্রতিক নির্দেশনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে । এ অবস্থায় তাদের পক্ষে দায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন টেলিভিশন সাংবাদিকদের প্রধান সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) । এটি একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য সংগ্রহের মৌলিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে বলা যায় । টেলিভিশন সাংবাদিকদের প্রধান সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তা প্রত্যাহার এর জন্য ও জানানো হয়েছে ইসিকে।

 

এতে বলা হয়, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা পালনে সুযোগ অপরিহার্য শর্ত। যদি ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ফোন। বিজেসির মতে, এই ধরনের নির্দেশনা গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল বলা যায় এবং এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে , স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এই সত্য নির্বাচন কমিশনকে অনুধাবন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিজেসি আরও জানিয়েছেন অবিলম্বে ইসির এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের করা জরুরি, পাশাপাশি সংগঠনটি মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা ভোটারদের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে ভোট দিতে যেতে ভোটাররা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

 

বাংলাধারা/এসআর