ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:৪৫ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় জয়ের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থনের ফলেই দীর্ঘ সময় পর দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে এবং এই অর্জন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারম্যান বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই তাদের এই পথচলা। তার ভাষায়, তারা এমন এক বাস্তবতা থেকে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন যেখানে অর্থনীতি ভঙ্গুর, সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে একটি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি যাতে দেশে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সব শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদসহ মোট ৫১টি দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য; এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শক্তিশালী হয় এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চিন্তা-ভাবনা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মত ও পথ ভিন্ন হলেও জাতীয় স্বার্থে সবাই এক এই বিশ্বাস থেকেই তারা এগোতে চান। জাতীয় ঐক্যকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাজনই হলো সবচেয়ে বড় দুর্বলতা; তাই উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়োত্তর এই বার্তায় সমঝোতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা নতুন সরকারের নীতি ও কৌশলের দিকনির্দেশনা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাধারা/এসআর