ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১১:৩৯ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি নির্বাচনী বিজয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় সফলতা কামনা করেন।

অভিনন্দন বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে সুস্পষ্ট জনসমর্থন পেয়েছে, তা দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। জনগণের রায়কে তিনি গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক ধাপ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই ফলাফল দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আস্থা ও অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেশকে স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া-এর রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের কথা। তাদের আদর্শ ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও সমন্বিত নীতিনির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে তারেক রহমানের সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে তার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বার্তার শেষে দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে তারেক রহমানের সব উদ্যোগ সফল হোক, এই কামনা করে তিনি মহান আল্লাহর কাছে তার প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা কামনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিনন্দন বার্তা নতুন সরকারের প্রতি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।

বাংলাধারা/এসআর