জেন-জি নেতৃত্বে ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৩৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর সংবেদনশীল আলোচনা চলার মধ্যেই রাজধানী তেহরানে আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো শহরের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষোভকারীরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শনিবার থেকে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি দ্রুত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, রাজধানীর তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন এবং কেউ কেউ ইরানের সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভি এর সময়কার পতাকা বহন করছেন। তাদের একটি অংশ রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও তুলেছে।
সরকারবিরোধী কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকারের সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও আলাদা মিছিল-সমাবেশ করেছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি তীব্র চাপে রয়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়াল বিশ্বের দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও বাজার অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে গত বছরের শেষ দিকে ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকদের আন্দোলন শুরু হলেও তা দ্রুত সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনসূচক মন্তব্য করেছিলেন এবং প্রয়োজনে সহায়তার ইঙ্গিত দেন। পরে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে, যদিও একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে। অন্য কিছু সূত্রে এ সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা মনে করছেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ, এই দুইয়ের সংমিশ্রণে ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাধারা/এসআর
