ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

সংসদ জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৫:৪০ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে নিরপেক্ষতা, ইনসাফ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “সংসদ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।”

রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং নিজ নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একইসঙ্গে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। খালেদা জিয়াকে তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ডেপুটি স্পিকার ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের সেই আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আজকের সংসদ নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের ত্যাগের ফসল।”

সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি সরকার ও দলীয় সব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সঠিক থাকলে আপনারা সহযোগিতা করবেন, আর ভুল করলে সংশোধন করে দেবেন।” তিনি স্বীকার করেন, সংসদে তাঁর চেয়েও অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান সদস্য রয়েছেন, যাদের সহযোগিতা তিনি প্রত্যাশা করেন।

এবারের সংসদকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “এই সংসদ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল, কেউ এসেছেন ফাঁসির মঞ্চের কন্ডেম সেল থেকে, কেউ আয়নাঘর থেকে, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন থেকে, আবার কেউ গুম ও নির্যাতনের স্মৃতি নিয়ে। আমরা সবাই এখানে মজলুম হিসেবে সমবেত হয়েছি।”

আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি প্রখ্যাত আইনবিদ এভি ডাইসির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, না সরকার, না জনগণ।” যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা থেকে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ, এখান থেকেই আমরা জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ দেখাব।”

বাংলাধারা/এসআর