ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল: সড়কমন্ত্রী
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৪:১৮ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
এবারের ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ অল্প সময়ে ঢাকা ছাড়লেও বড় ধরনের ভোগান্তি হয়নি।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারের কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রায় দেড় কোটি মানুষ মাত্র তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় গেছেন। এত বড় চাপ থাকা সত্ত্বেও যাত্রা মোটামুটি ‘স্মুথ’ ছিল। তবে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “একটি প্রাণহানিও কাম্য নয়। দুটি বড় দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে। তারপরও আগে যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা বা যানবাহনের অভাবে ঈদের দিনও রাস্তায় কাটানোর ঘটনা ঘটত, সেসব এবার অনেকটাই কমেছে। আমরা মনে করি, অধিকাংশ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।”
দুর্ঘটনার দায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কাউকে নির্দিষ্টভাবে দায়ী করতে চান না। তবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, রেলপথের একটি দুর্ঘটনায় জড়িত দুই গার্ডকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ওই কোম্পানির সব বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এসময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিআরটিএ ও সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত ১১ দিনে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে মোট ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, নৌপথে ২৮ জন এবং রেলপথে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে অন্যান্য সড়কে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর একই সময়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৮৭ জন। যদিও তুলনা টানতে চান না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতে আরও কমিয়ে আনতে কাজ করছি। আজকের এই সভাও সেই প্রস্তুতির অংশ।”
বাংলাধারা/এসআর
