প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যশোরে গ্রাম আদালতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

স্বল্প ব্যায়ে ও দ্রুত সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় জেলায় গ্রাম আদালতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। 
বিগত দুইবছরে জেলায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে প্রায় সাতহাজার মামলা পরিচালিত হয়েছে।এসব মামলার নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। একই সময়ে ভুক্তভোগীরা প্রায় ১৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। 
গ্রাম আদালত প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলার ৮টি উপজেলার ৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে ও নগণ্য খরচে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।
গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহীতা জেলার চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের আলম খানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ পাওনা ৪০ হাজার টাকা উদ্ধারের জন্য ঘুরছিলেন। অথচ আদালতে যাওয়া সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তিনি নিজের পাওনা টাকা বুঝে পেয়েছেন। আলম খানের মতো যশোরের হাজারো মানুষের কাছে এখন দ্রুত বিচার ও ভোগান্তি থেকে মুক্তির নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিনত হয়েছে গ্রাম আদালত।
‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)’-এর যশোর জেলা ম্যানেজার অ্যাড. মহিতোষ কুমার রায় জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২৯ মাসে জেলায় মোট সাতহাজার ১০৮টি মামলা পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে সাতহাজার টি মামলা, যা মোট মামলার ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ, জেলায় গড়ে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে মাত্র ১০ দিন।
তিনি জানান, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ছয়হাজার ৪৯১টি মামলার সিদ্ধান্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সর্বমোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্তদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
এছাড়া উল্লেখিত সময়ে গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত মামলার মধ্যে তিনহাজার ৮১৩টি দেওয়ানি ও তিনহাজার ২৯৫টি ফৌজদারি বিরোধ ছিল। এ সেবার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী রয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি’র অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় মূলত লেনদেন ও পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত বিরোধ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, কৃষি শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ এবং ছোটখাটো ফৌজদারি অপরাধের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) রফিকুল হাসান জানান, গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবা ইউনিয়ন পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সম্ভব।
তিনি জানান, স্বল্প ব্যায়ে ও দ্রুত সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায়  গ্রাম আদালতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পাশাপাশি এতে জেলা ও উচ্চ আদালতগুলোতে মামলার চাপ ও দীর্ঘসূত্রিতা কমে আসবে। 

বাংলাধারা/ডেস্ক
 

মন্তব্য করুন