ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করা হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬, ০৯:৩২ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এমন বিধান আইন ও সংবিধানের মাধ্যমে প্রবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব বিএনপি বহু আগেই জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে এবং এটি দলটির ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব’-এ নথিভুক্ত রয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে অনেক আগেই একটি মৌলিক প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি ১০ বছরের বেশি সময় সেই পদে থাকতে পারবেন না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপিই দিয়েছিল এবং সেটি ডকুমেন্টেড। কাজেই এই কৃতিত্ব আমরা গ্রহণ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশের বিদ্যমান আইনের মধ্যেই এই বিধান কার্যকর করব, যাতে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো ব্যক্তির হাতে দীর্ঘদিন কেন্দ্রীভূত না থাকে।”

সাংবিধানিক সংস্কারের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের অনেক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদ নিয়ে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময়ই বলেছিলাম,৭০ অনুচ্ছেদটি পর্যায়ক্রমে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসা প্রয়োজন। দুই-একটি বিষয় বাদে আমরা ধীরে ধীরে এই অনুচ্ছেদকে উন্মুক্ত করতে চাই।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে যদি প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। সেই ভোট অবশ্যই হতে হবে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য, যে ব্যবস্থার ওপর দেশের জনগণের পূর্ণ আস্থা থাকবে।”

নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “দেশের মানুষের মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচন একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার—অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। সে কারণেই আমরা ৩১ দফা ঘোষণার সময় স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, তখনই পরিষ্কার করে বলেছিলাম, সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি পেলে বিএনপি অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে। পরবর্তীতে অনেক রাজনৈতিক দল এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতে চাই যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বিএনপিই এই প্রস্তাবটি জাতির সামনে এনেছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জোট শরিকদের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মহলের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/এসআর