কেন বছরের পর বছর বিতর্কের কেন্দ্রে ইরানের ইউরেনিয়াম?
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০২:২৩ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে আছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যকার টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার উঠে এসেছে এই বিষয়টি।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্যই পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই দাবি মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল। তাদের আশঙ্কা, এই কর্মসূচির আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চলছে।
এই সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। সংস্থাটির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে পরমাণু বোমা তৈরি সম্ভব, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হলেও ওই ইউরেনিয়ামের অবস্থান এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে এটি কোথায় আছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য।
কূটনৈতিক আলোচনাতেও একই অচলাবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার ইউরেনিয়াম কর্মসূচি সীমিত করুক বা সংবেদনশীল উপাদান হস্তান্তর করুক। অন্যদিকে ইরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ হিসেবে দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এই মতবিরোধের কারণেই সাম্প্রতিক সংলাপগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
আগামীতে আবারও সংলাপে বসার কথা রয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ, ইরান কি তার দীর্ঘদিনের পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দিতে রাজি হবে?
একদিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি ও অর্থনৈতিক সুবিধা, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব, এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই বছরের পর বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়ে গেছে ইরানের ইউরেনিয়াম।
বাংলাধারা/এসআর
