ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১১:৪৭ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

নতুন সূর্যের আলোয় আজ শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি আর বেদনা পেছনে ফেলে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে বইছে আনন্দের উচ্ছ্বাস। ভোরের প্রথম আলোতেই যেন বাতাসে ভেসে উঠেছে নতুনের আহ্বান, নতুন করে বাঁচার প্রত্যয়।

একসময় পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল হালখাতার আমেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার উৎসব। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে, তবে হারিয়ে যায়নি উৎসবের প্রাণ। বরং আধুনিক আয়োজন আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, বিস্তৃত হয়েছে উদযাপনের পরিধি।

রাজধানী থেকে গ্রাম, সবখানেই আজ উৎসবের রঙ। বর্ণিল পোশাকে নারী, পুরুষ ও শিশুরা মেতে উঠেছে আনন্দে। বসেছে বৈশাখী মেলা, আয়োজন করা হয়েছে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুর মতো লোকজ ক্রীড়ার। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জব্বারের বলিখেলা আবারও জমিয়ে তুলবে লালদীঘি ময়দান-এর প্রাঙ্গণ, বহন করবে শতবর্ষের ঐতিহ্য।

জাতীয় পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। নববর্ষ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন ও তারেক রহমান। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান। পয়লা বৈশাখকে তারা দেখছেন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে।

বরাবরের মতোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ আয়োজিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে লোকঐতিহ্যের রঙিন উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়েছে দর্শনার্থীরা। বাঁশ, কাঠ ও কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে শোভাযাত্রার ভিড়ে। এবারের মূল বার্তা অশুভ শক্তির বিনাশ ও কল্যাণময় আগামীর প্রত্যাশা।

শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রতীকী মোটিফ মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে এগুলো তুলে ধরেছে বাংলার গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’সহ দেশাত্মবোধক গানে মুখরিত হয়েছে পুরো আয়োজন।
রমনার বটমূলে ছায়ানট-এর সম্মিলিত কণ্ঠে বর্ষবরণের গান বরাবরের মতোই সৃষ্টি করেছে এক আবেগঘন পরিবেশ। অন্যদিকে উদীচী আয়োজন করেছে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে সময়ের চেতনা।

নববর্ষ উদযাপনে যুক্ত হয়েছে নানা প্রতিষ্ঠানও। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-সহ বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‍্যাব। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে নির্বিঘ্নে মানুষ উপভোগ করতে পারে উৎসবের আনন্দ।

নববর্ষের এই প্রভাতে আবারও উচ্চারিত হচ্ছে চিরন্তন আহ্বান পুরনোকে বিদায়, নতুনকে স্বাগত। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর মানবিক মূল্যবোধে ভর করে পয়লা বৈশাখ যেন হয়ে ওঠে সবার জন্য মিলন ও সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল উৎসব।

বাংলাধারা/এসআর