ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, ঐতিহ্য-সুরে নববর্ষের মহোৎসব
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৫৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
ঢাকায় বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাত যেন রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণের উৎসব হয়ে ফিরে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীতের সুরে আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এই বর্ণিল আয়োজনের। তবে তারও আগে, সকাল ৮টা থেকেই উৎসবপ্রেমী মানুষের ঢল নামে চারুকলার আঙিনায়। লাল-সাদা আর রঙিন পোশাকে সজ্জিত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
ঢোল-বাদ্যের তালে তালে এগিয়ে চলে শোভাযাত্রা। প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করে এই আয়োজনকে দেয় বিশেষ মাত্রা। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর সুরেলা পরিবেশনা পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
লোকঐতিহ্যের শিকড়ে দাঁড়িয়ে নির্মিত বিশালাকৃতির মোটিফগুলো বরাবরের মতোই ছিল শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ। বাঁশ, কাঠ আর রঙিন কাগজে তৈরি বাঘ, হাতি, ময়ূর ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল জনসমুদ্রে। এবারের শোভাযাত্রার মূল বার্তা, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর প্রত্যয়।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে পাঁচটি প্রতীকী মোটিফ মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফই বহন করছে গভীর তাৎপর্য শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে এগুলো উপস্থাপিত হয়েছে অত্যন্ত নান্দনিকভাবে। শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি এসব শিল্পকর্মে ফুটে উঠেছে বাংলার ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার অপূর্ব মেলবন্ধন।
নিরাপত্তার দিকটিও ছিল সর্বোচ্চ গুরুত্বে। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়, নিষিদ্ধ করা হয় মুখোশ, ব্যাগ, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন ও আতশবাজি। পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি, আর্চওয়ে, হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও ছিল বিশেষ প্রস্তুতি।
শুধু শোভাযাত্রাই নয়, নববর্ষকে ঘিরে ছিল নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনও। চৈত্র সংক্রান্তির বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। আর নববর্ষের আমেজকে আরও দীর্ঘায়িত করতে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা।
সব মিলিয়ে, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে, এটি শুধু একটি শোভাযাত্রা নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মহোৎসব।
বাংলাধারা/এসআর
