ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

মাথাপিছু আয় ২,৭৬৯ ডলার, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০৬, ২০২৬, ০৬:০২ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। তবে সরকারের লক্ষ্য শুধু আয় বৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও স্পোর্টস ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মাথাপিছু আয় বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, রপ্তানি আয় বাড়ানো, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ জোরদার করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই), বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করা এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব উদ্যোগের কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, আর বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সমন্বিত এসব উদ্যোগ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি ২০৩৪ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

বাংলাধারা/এসআর