ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০৬, ২০২৬, ০৩:২৯ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন অগ্রগতি দেখা গেছে। মামলায় সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে মামলার সর্বশেষ অগ্রগতির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিচারক সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।

তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই তিনজনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, তারা সবাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগেই তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু তা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। আদালত এখন সেই ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আদালতে উপস্থিত হয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, এক দশক ধরে মেয়ের হত্যার বিচার পেতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন, কিন্তু এখনও কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ন্যায়বিচার চাইবেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলার দায়িত্ব পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

বাংলাধারা/এসআর