পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিক গুণ জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০২:৪৮ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
চিকিৎসা পেশায় সাফল্যের জন্য শুধু পেশাগত দক্ষতাই নয়, মানবিক গুণাবলিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের বিপদের প্রকৃত বন্ধু। তাদের আন্তরিক আচরণ ও পরামর্শ রোগীর কাছে অনেক সময় ওষুধের মতো কাজ করে। তাই একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা পেশার গুরুত্ব অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি। এই বাস্তবতায় উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সরকারের স্বাস্থ্যনীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম”, এই নীতিকে সামনে রেখে কাজ করছে সরকার। রোগ শুরুর আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নত চিকিৎসাসেবা এখনও অনেকটাই শহর, বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক। এই বৈষম্য দূর করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এতে রোগীদের ঢাকামুখী হওয়ার চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। তাই সংক্রামক রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ‘মূল চালিকাশক্তি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের নেতৃত্বেই তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ধাপে ধাপে জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন এবং পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী হবেন।
তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করবেন।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে।
শিশুদের হামের টিকাদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে টিকা না দেওয়ার কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যকার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেষে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মস্থলকে একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করতে নেতৃত্ব দেবেন। একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ জাতি গঠনে তাদের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাধারা/এসআর
