ঢাকা, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহারে ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশনের প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬, ১০:১০ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করবে। দল দুটির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সত্য উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে এই কমিশনের লক্ষ্য।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এই প্রক্রিয়ার আওতায় অনুশোচনা প্রকাশের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের সেইসব নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক মূলধারায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হতে পারে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই। তবে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা গুমের সঙ্গে জড়িতদের এই সুযোগ দেওয়া হবে না।

শুক্রবার ঘোষিত বিএনপির ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার অংশে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থবহ ক্ষতিপূরণ এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে গত মঙ্গলবার ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারের আইন ও বিচার-সংক্রান্ত অংশে ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করা হয়। এতে বলা হয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করে কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে গত ১৫ বছরে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সত্য উদ্ঘাটন এবং জাতির জন্য নতুন অধ্যায় সূচনার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের উদ্যোগের কথা জানালেও নয় মাসে তা বাস্তবায়ন হয়নি। সে সময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছিলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে, তবে যারা মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাদের পুনর্বাসনও প্রয়োজন।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য ড. কুদরাত-ই-খোদা বলেন, ভুক্তভোগীদের প্রতিকার ও ভবিষ্যতে অপরাধ রোধে এই ধরনের কমিশন কার্যকর হতে পারে। তবে জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সে কারণে ন্যায়বিচার ও অনুশোচনার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় পুনর্মিলন জরুরি বলে তারা মনে করছে।

বাংলাধারা/এসআর