ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

বিচ্ছিন্ন অনিয়ম থাকলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ ও তুলনামূলক সুষ্ঠু

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:৩৫ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

কিছু বিচ্ছিন্ন অনিয়ম, পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা এবং কয়েকটি কেন্দ্রে অভিযোগের ঘটনা ঘটলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ, সহিংসতামুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির মতে, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের ভোট ছিল বেশি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরেন নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় মোট ৫৬৫ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। তারা ১০০টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৭৩৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে ৩৪৭ জন পর্যবেক্ষক সরাসরি ভোট গণনার সময় কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন। তবে অন্তত ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে গণনা কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বা তারা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংস্থাটি জানায়, সারাদেশে ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু হলেও অন্তত ২১টি কেন্দ্রে কিছু অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট–৪ আসনের কাগাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কেন্দ্র দখলের অভিযোগ রয়েছে। সুনামগঞ্জের একটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষককে হেনস্থা করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের একটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়। ভোলার কয়েকটি কেন্দ্রে হামলা ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ময়মনসিংহ বিভাগের একটি কেন্দ্রে প্রায় ৩০০ ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খোলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গাইবান্দার ইসলামপুর থানার গাইবান্দা ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্যও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। একটি কেন্দ্রে দুপুর ২টার মধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হলেও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

রংপুর, কুমিল্লা, রাজশাহী, ঢাকা ও গাজীপুরের কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা, গণনা পর্যবেক্ষণে প্রতিবন্ধকতা এবং মৌখিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটের আগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর ও সিল দেওয়া এবং ভোটারদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের চ্যালেঞ্জ ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইজাজুল ইসলাম বলেন, “বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনার বাইরে বড় ধরনের সহিংসতা বা গুরুতর অনিয়ম আমাদের পর্যবেক্ষণে আসেনি। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও যেন সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকে এবং চিহ্নিত অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, এ প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/এসআর