ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসবে না ইরান: নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ০২, ২০২৬, ১২:৪৮ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই ওঠে না।

এর আগে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ওমান এর মধ্যস্থতায় ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র এর কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে লারিজানির বক্তব্য সেই জল্পনাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।

এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। লেবানন-এ সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাজধানী বৈরুত এর দক্ষিণাঞ্চলে হামলাটি চালানো হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে গড়াচ্ছে। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই পরিস্থিতিকে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে দেশকে সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার সতর্কতা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, হিজবুল্লাহ–সংলগ্ন স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে; তাই বাসিন্দাদের অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ ছয় দেশ, জরুরি বৈঠকে ইরানের কথিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে জনসমর্থন সীমিত। ইপসস-এর সঙ্গে যৌথ জরিপে রয়টার্স জানিয়েছে, মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই হামলাকে সমর্থন করেছেন, বিপরীতে ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। একই জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনা একসঙ্গে বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাধারা/এসআর